জনগণ বার্তা
নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রাণকেন্দ্র ছিল এই জিয়া হল। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে এখানে নিয়মিত মঞ্চনাটক, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হত। স্থানীয় শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকত পুরো প্রাঙ্গণ।দীর্ঘ ১৭ বছর সংগ্রামের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও ঐতিহাসিক স্থাপনা পুনরুদ্ধার ও পুনর্র্নিমাণের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। তার মধ্যে অন্যতম নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শহীদ জিয়া হল। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও অনাদরে পড়ে ছিল জিয়া হল। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি ক্রমেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় হলটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যায় বলে জানান স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল রাতে। ওই রাতে দুর্বৃত্তরা জিয়া হল প্রাঙ্গণে স্থাপিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল ভেঙে ফেলে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে জিয়া হল ছিল তাদের ক্ষোভের অন্যতম প্রতীক। রাজনৈতিক বিদ্বেষ থেকেই ঐতিহ্যবাহী এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় আসায় জিয়া হল পুনর্র্নিমাণের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ আশা করছেন, নতুন সরকার অতীতের অবহেলা কাটিয়ে উঠে ঐতিহ্যবাহী এই হলটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ পুনর্র্নিমাণ করবে। তাদের মতে, জিয়া হল পুনরুদ্ধার করা হলে নারায়ণগঞ্জে আবারও সাংস্কৃতিক চর্চার প্রাণ ফিরে আসবে। এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ বলেন, জিয়া হল আমাদের নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে একটি আবেগের যায়গা। এটা জেলা প্রশাসকের তত্বাবধানে থাকায় আমরা বিএনপি থেকে আগামী উন্নয়ন সভায় জিয়া হল নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা উত্থাপন করবো। অল্প যায়গায় অধিক ভাবে যেন কাজে লাগানো যায় সেভাবেই আমরা পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) রায়হান কবির জানান, এখনও কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি তবে জিয়া হল নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা জিয়া হলের যায়গায় যেন আকর্ষণীয় কোন কিছু করা যায় সে বিষয়ে পরিকল্পনা করছি।